ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী এদেশের রাজনীতিতে এক অতি উজ্জল নক্ষত্র । বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের দৈনিক দেশবাংলা, যা দেশ থেকে দেশান্তরে আন্তর্জাতিক অংগনে বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল, উপমহাদেশের দার্শনিক ছাত্রনেতা খ্যাত, পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের সিংহাসন কাঁপানো বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, ছয়দফা আন্দোলনের বংগবন্ধুর অন্যতম সহকর্মী, দেশের ভু.রাজনীতিবিদ হিসেবে সুপরিচিত আজকের প্রগতিশীল গনতান্ত্রিক দল পিডিপি'র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী ।

ড. কোরেশী একটি প্রতিষ্ঠান, একজন সম্পাদক, একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসু'র সাবেক ভিপি এবং পাকিস্তান আমলে বৃহত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন । ৬২ আয়ুব বিরোধী আন্দোলনে তার জোরালো ভূমিকা "বিবিসি বাংলাবিভাগ"কে দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে ।

একজন মেধাবী ছাত্রহিসাবেই তাঁর ছাত্রজীবন শুরু হয় । এই তীক্ষ মেধাবী ছাত্রনেতা এস এস সি পরীক্ষায় তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানে মেধা তালিকা দ্বাদশ স্থান এবং চট্রগ্রাম বিভাগে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন । ছাত্র জীবনে সবক'টি স্তরেই তিনি প্রথম বিভাগ এবং প্রথম শ্রেনীতে উর্ত্তীন হন । চট্রগ্রাম থেকেই তাঁর শিক্ষা জীবন ও ছাত্র রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু হয় । একবারেই তরুন বয়সে তিনি চট্রগ্রাম কলেজের সাহিত্য সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হন । পরের বছর তিনি চট্রগ্রাম আইন কলেজের ছাত্র সংসদের জি এস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আহ্ববানে তিনি ছুটে আসেন ঢাকা । ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।১৯৬২ সন ইতিহাসের নতুন মাইলফলক , ১৯৬২- সনের শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বাতিলের দাবীতে সারা বাংলার ছাত্র আন্দোলনে তিনি ছিলেন একেবারেই প্রথম সারির নেতা । ৫২ এর ভাষা আন্দোলন ,শিক্ষা কমিশনের প্রস্তাবিত দাবী প্রত্যাহার নিয়ে একাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ গোটা দেশের ছাত্র সমাজ । রাজপথের আন্দোলনে মাঠ কাঁপাতে আসেন ফেরদৌস আহমদ কোরেশী । পরিচিতি লাভ করেন দার্শনিক ছাত্রনেতা হিসেবে । তিনি একাধারে এম এস সি ও এল এল বি ফাইনাল পরীক্ষার্থী ছিলেন । পদার্থ বিজ্ঞাপনের ছাত্র হয়েও ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পন্চাশের দশক থেকে সত্তরের দশক পর্যন্ত যে স্বর্ণযুগ এসেছিল সেই সময় পূর্ব বাংলায় যারা ছাত্র রাজনীতিতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন ফেরদৌস আহমদ কোরেশী তাদের অন্যতম ।

১৯৬৪ সন ভারত- পাকিস্তানের যুদ্ধকৌশলে রনদামামা আতন্কিত হয় গোটা পূর্বপাকিস্থান।এই সময় জগন্নাথ হলে আক্রমনের গুজব ছড়িয়ে পড়লে অসাম্প্রদায়িক ছাত্রলীগ এক কঠিন পরীক্ষার সন্মুখীন হন । সেই দিন জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ফেরদৌস আহমদ কোরেশী সহ সন্মিলিত ছাত্রনেতাদের সৃষ্ট পরিকল্পনায় ক্ষমতাসীনদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেন । এই সময় বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আতাউর রহমান খানের সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকার প্রসংশা করে ড, কোরেশী তার এক প্রবন্ধে বলেছেন ,মাওলানা ভাসানী সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ,পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলী আবদুস সালাম, মানিকমিয়া ,আকরাম খান ,আবুল কালাম শামসুউদ্দিন ,জহুর হোসেন চৌধুরী সহ সাম্প্রদায়িক উস্কানির বিরুদ্ধে সোচ্ছার হয়ে উঠেন ।

সমকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কনভোকেশনে গভর্ণর মোনায়েম খাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কান্ড ঘটে যায় । ফেরদৌস কোরেশীসহ ৪২ জন কে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ " সদাচরণের মুচলেকা " প্রদানের নির্দেশ দেন । সবাই স্বাক্ষর করে রেহাই পেয়ে গেলেও এই অপমানজনক মুচলেকায় ফেরদৌস কোরেশী স্বাক্ষর দিতে রাজী হননি । তিনি সেইদিন ভাইস-চ্যান্সলর বরাবর চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন ,এটাকে আমি স্বাক্ষর করবো না । ( চিঠি টি ১৯৬৪ সনে সকল জাতীয় পত্রিকা ফলাও করে প্রকাশিত হয় )

ঘটনার জের হিসেবে গ্রেফতার হন ফেরদৌস কোরেশী ,বহিস্কৃত হন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে । ৬৫ যুদ্ধের পর মুক্তি মিলে ফেরদৌস কোরেশীর । ছাত্রলীগ সভাপতি কে এম ওবায়দুর রহমান তখনও কারাগারে, সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে ফেরদৌস কোরেশী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৬৬ সনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ডাকসু'র সহসভাপতি ( ভি পি ) নির্বাচিত হন । এই সময় বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ৬ দফা কর্মসূচি প্রন্য়ন করেন । ছাত্রদের এগার দফা এবং বংগবন্ধুর ৬ দফা দাবী নিয়ে উত্তপ্ত রাজপথ । নেতৃত্বের প্রথম সারিতে ফেরদৌস আহমদ কোরেশী । ১১ দফা প্রনয়নকারীদের একজন হিসেবে ইতিহাসে তাঁর স্থান হয়ে থাকবে অটল ।

১৯৬৭ সনে দেশের বৃহওম ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ এর সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ড. কোরেশী দেশের যুবসমাজকে দিকনির্দেশনা দেন ।

তাঁর আপোষহীন ও দুরদর্শী নেতৃত্ব ১৯৬৮ সালে বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ ৩৫ জন রাজনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত " আগরতলা য়ডযন্র মামলা " নামে অভিহিত রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার বিরুদ্ধে গন আন্দোলন গড়ে উঠে এবং সেই আন্দোলন প্রত্যাহারে আয়ুব সরকার বাধ্য হয় ।

১৯৭১ সনে পাকসেনাদের আক্রমনের মুখে স্বপরিবারে দেশত্যাগ করেন ড. ফেরদৌস কোরেশী । ১১ জন ভাই-বোন সকলেই ছিলেন রনাঙ্গনের সক্রিয় মুক্তি যোদ্ধা ,প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের মাঠে থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে প্রচারনাও উদ্যোগ গ্রহন করেন ড. কোরেশী । প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদনায় মুক্তিযুদ্ধের প্রকাশিত প্রথম ও একমাত্র পত্রিকা "দৈনিক দেশবাংলা " ।

স্বাধীনতা উওরকালে বিভিন্ন পর্যায় তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকায় অবর্তীন হন । জাতীয় ঐক্যের ক্ষুরধার লিখনি "বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ " প্রসংগে তাঁর প্রকাশিত লেখা রাষ্ট্রপতি জিয়ার নজরে এলে তিনি ড. কোরেশীকে জাতীয়তাবাদী দলে যোগদানের আহ্ববান জানান । ১৯৮০ সনে তিনি আনুষ্টানিক ভাবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদেন এবং ঐ দলের যুগ্নমহাসচিব হিসেবে ৮৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৮১ সনে জিয়াউর রহমান নিহত হলে অসমসাহসিকতার সাথে তিনি দলটির পূনর্গঠনের অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন ।

২০০১ সালে বি এন পি তে কন্ট্রোল ডেমোক্রেসি একনায়কত্ব চালু হলে তিনি বি এন পি থেকে পদত্যাগ করেন ।

২০০৭ সালে সেনাশাসন আমলে আওয়ামীলীগ ও বি এন পি'র ওপর চরম বিপর্যয় নেমে এলে ,দু নেত্রী কারাবন্দী হন । কবর রচিত হয় গনতন্ত্রের । এই সময় সাহসীকতার সাথে লড়াই করে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী ২০০৮ সালে গঠন করেন " প্রগতিশীল গনতান্ত্রিক দল পি ডি পি । তিনি পিডি পির প্রতিষ্টাতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান ।

১৯৮৩ সনে ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী লন্ডনে গিয়ে বি বি সি তে যোগদেন । তাঁর ধারা ভাষ্য এরশাদ পতনে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করে । দীর্ঘকাল লন্ডন থাকা কালিন সময় তিনি বাংলাভাষায় ইলেকট্রনিক টাইপরাইটার - ওয়ার্ড প্রসেসর উদ্ভাবন করে দেশব্যাপী সাডা জাগিয়েছন ।

তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দক্ষিন এশিয়ার রাজনীতি, অর্থনীতি ,ও ভূগোল বিষয় কৃতিত্বের সাথে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন । ৬৪ বছর বয়সে এই কৃতিমান গবেষক "সিস্টেম সায়েন্স,ভু.রাজনীতিতে " লন্ডন সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে পি এইচ ডি ডিগ্রি লাভ করেন । তার দুইটি গবেষণা গ্রন্থ Christianity in the Eastern Hills of South Asia ; social impact and political implications ' এবং Nation State Boundary : Quest for Systemic Equillbrium' আন্তর্জাতিক অংগনে সমাদৃত ।


Introduction to PDP



Office Address


Central Office:

8/4/A - Topkhana Road,

Segunbagicha,

Dhaka - 1000

Contact Us PDP


Telephone : +880 - 01877 757 027

WhataApp : +880 - 01877 757 027

Others : +880 - 01323 426 313

E-mail : pdpbd008@gmail.com

facebook : www.facebook.com/pdpbd26/